বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন
তাইওয়ান ইস্যুতে আগুন নিয়ে না খেলতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করলো চীন। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ফোনালাপে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, আগুন নিয়ে যে খেলবে, তাকে পুড়তে হবে।
এদিকে, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আগের অবস্থানেই থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সম্ভাব্য তাইওয়ান সফর নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ ফোনালাপ হলো। এসময় শি ও বাইডেনের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানায় বাইডেন প্রশাসন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর ৫ দফা ফোনালাপ হলেও এখনো মুখোমুখি বৈঠক করেননি শি জিনপিং ও জো বাইডেন।
জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা হলেও ট্রাম্প আমলে চীনের ওপর আরোপিত বাণিজ্য শুল্ক প্রত্যাহার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
তাইওয়ান সফরের পরিকল্পনা এখনো নিশ্চিত করেননি ন্যান্সি পেলোসি। তবে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাংবাদিকদের বলেন, তাইওয়ানে স্পিকার পেলোসির সফরকে ভালো পরিকল্পনা বলে মনে করেন না সেনা কর্মকর্তারা।
বিবিসির খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনা নেতারা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ফোন কলে তাইওয়ানের বিষয়ে একে অপরকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বলেছেন যে দ্বীপটির মর্যাদা পরিবর্তনে যেকোনো একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তিনি যোগ করেছেন যে তাইওয়ানের বিষয়ে মার্কিন নীতি পরিবর্তন হয়নি।
বেইজিং জানিয়েছে, শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে এক-চীন নীতি মেনে চলতে বলেছেন এবং তাকে সতর্ক করা হয় যে, আগুন নিয়ে যে খেলবে, তাকে পুড়তে হবে।
মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বা প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের গুজবকে ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে।
দেশটির পররাষ্ট্র দফতর বলেছে যে পেলোসি কোনো সফরের ঘোষণা দেননি, তবে চীন সতর্ক করেছে যে পেলোসি যদি এমন কোন সফরে যান তাহলে এর পরিণতি গুরুতর হবে।
বৃহস্পতিবারের ফোন কলের সময় বাইডেন এবং শি জিনপিং তাদের সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠকের বিষয়েও আলোচনা করেছেন, বাইডেন প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা দ্বিপাক্ষিককে প্রত্যক্ষ এবং সৎ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
বাইডেন যখন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন তিনি ২০১৫ সালে চীনা নেতার যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় শি জিনপিংকে আতিথেয়তা করেছিলেন। কিন্তু বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তারা ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেননি।
চীন তাইওয়ানকে একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসাবে দেখে, যেটাকে দেশের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরা হয় এবং সেটি অর্জনের জন্য চীন শক্তি প্রয়োগ করতেও দ্বীধা করেনি।
এক-চীন নীতির অধীনে, ওয়াশিংটন তাইপেকে কূটনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না। তবে যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিকভাবে স্বশাসিত ওই দ্বীপে অস্ত্র বিক্রি করে যাতে তারা আত্মরক্ষা করতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানায়, তাইওয়ান ছাড়াও দুই নেতা জলবায়ু পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানায়, দুই দেশের ব্যবধানগুলো দায়িত্বপূর্ণভাবে ব্যবস্থাপনার একটা প্রচেষ্টার অংশ এই আলোচনা, যেখানে একই স্বার্থ অর্জনে দুই দেশ একসাথে কাজ করবে।
বেইজিং জানায়, তাদের অনেক স্বার্থে মিল রয়েছে। কিন্তু দুই দেশের সম্পর্কে অবনতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে চীন।
চীনকে প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ওয়াশিংটনের সবচেয়ে গুরুতর দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিতে বাইডেন প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেছে বেইজিং।